শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বাণিজ্যিকীকরণ ও তা বন্ধে অামার কিছু প্রস্তাব

নাসির উদ্দিন, কক্সটিভি
  • প্রকাশিত সময় : শুক্রবার, ২৫ জানুয়ারী, ২০১৯
নাসির উদ্দিন, কক্সটিভি

বছরের শুরুতেই সারাদেশে বিভিন্ন স্কুল-কলেজে ভর্তি কার্যক্রমে উঠতে শুরু করেছে নানা অভিযোগ। অামাকে অবাক করেছে অামার এলাকা উখিয়া উপজেলার স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পালং অাদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়, ইনানী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উঠায়। তাতে অামি উদ্বিগ্ন হয়েছি। যারপরনাই বিস্মিত হয়েছি।কারণ বর্তমান সরকার শিক্ষা ক্ষেত্রে ইতিমধ্যে অর্জন করেছে ঈর্ষনীয় সাফল্য। তাই কিছু মানুষের লোভের কাছে যাতে এই সাফল্য ম্লান হতে না পারে তার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তপক্ষের দৃষ্টিঅাকর্ষণের জন্য অামার ভাবনা-চিন্তার কিছু।

প্রস্তাবনা নিম্নে তুলে ধরছি:
১। বিভিন্ন শিক্ষা সরকারী-বেসরকারী স্কুল, ক্যাডেট, কিন্ডারগার্ডেনে ভর্তির নামে বাণিজ্য ও কোচিং বাণিজ্য বন্ধের জন্য সুনির্দিষ্ট আইন ও নীতিমালা তৈরি করতে হবে।

২। শিক্ষা সবার মৌলিক অধিকার এই মৌলিক অধিকার কে যারা বাণিজ্যে পরিণত করেছে তাদের কে আইনের আওতায় আনতে হবে দ্রুত।

৩। শিক্ষা সেবা দেবার নামে রেজিস্ট্রেশন প্রাপ্ত সকল প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব নিরীক্ষা করতে হবে নিয়মিত।

৪। শিক্ষা সেবা দেবার কথা বলে যে সকল প্রতিষ্ঠান অনৈতিক অর্থ আত্মসাৎ করেছে বা করে যাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

৫। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতি সেশনে ভর্তি পরীক্ষার নামে কোমলমতি শিশু-কিশোর তথা ছাত্র হয়রানী বন্ধ করতে হবে।

৬। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য “আগে এলে আগে পাবে”এই ভিত্তিতে ভর্তি অথবা সকল আবেদন গ্রহণের পর সিট অনুপাতে লটারীর মাধ্যমে ভর্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

৭। সরকারী-বেসরকারি ও প্রাইভেট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করণে নিয়ন্ত্রণ কমিশন বা অভজারভেটরি কমিশন গঠন করতে হবে।

৮। শিক্ষা সমাপনী সনদ হবে পরবর্তী শ্রেণীতি ভর্তির জন্য একমাত্র দলিল এবং সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য পূর্ববর্তী প্রতিষ্ঠানের প্রত্যয়ন পত্র যথেষ্ট বলে মানতে হবে। সে ক্ষেত্রে ভর্তির জন্য একমাত্র মৌলিক কিছু মৌখিক প্রশ্ন করা ছাড়া কোন ভর্তি পরীক্ষা নেয়া যাবেনা সেই বিধান চালু করতে হবে।

৯। শিক্ষার্থীর নিকট বিভিন্ন খাত দেখিয়ে অযথা ফি আদায় করা বন্ধ করতে হবে।

১০। প্রতিটি বেসরকারি স্কুল ও কলেজ এর ভর্তি ফি বা সেশন ফি এবং মাসিক বেতন বাবৎ সকল টাকা ছাত্রদের গার্জিয়ান এর মাধ্যমে জমা হবে সরকার নির্ধারিত কোন ব্যাংক একাউন্টে এবং সেই একাউন্ট থেকে যে প্রতিষ্ঠানে যতজন ছাত্র ভর্তি করা হয়েছে সেই ডাটাবেজ অনুযায়ী সরকার সরাসরি প্রতিষ্ঠানের একাউন্টে সেই পরিমান অর্থ পরিষোধ করবে। এই ব্যবস্থা চালু করতে করতে হবে।

১১। শিশু শ্রেণী থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত সকল সরকারি-বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অবশ্যই গার্জিয়ান বা তত্বাবধায়ক অপেক্ষা গ্যালারি সেড নির্মাণ বাধ্যতামূলক করতে হবে।

১২। নিজস্ব কারিকূলামের নামে বই ব্যবসা বন্ধ করতে হবে। সকল শিক্ষা (স্কুল-কলেজ) প্রতিষ্ঠানের কারিকূলাম অবশ্যই শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক অনুমোদন নেয়া বাধ্যতা মূলক করতে হবে।

১৩। ম্যানেজিং কমিটির সরকারি উপহার সামগ্রী আত্নসাৎ ও দূর্নীতি বন্ধ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তথা শিক্ষা ব্যবস্থাকে দুর্নীতির কবল থেকে অধিকাংশ ক্ষেত্রে রক্ষা করা যাবে বলে অামি মনে করি।

আপনাদের মতামত যুক্ত করবেন সেই প্রত্যাশায়-
জয় বাংলা-জয়বঙ্গবন্ধু, নাসির উদ্দিন, কক্সটিভি
সাবেক সাধারণ সম্পাদক
ইনানী শহর ছাত্রলীগ ও ছাত্রলীগ নেতা উখিয়া উপজেলা শাখা।

সংবাদটি আপনার ফেইসবুকে শেয়ার করুন...

এই ক্যাটাগরীর অন্যান্য সংবাদ :