কুরবানীর হুকুম আহকাম ও বিধি বিধান-ককটিভি

হাফেজ মাওলানা মিজানুর রহমান, ধর্মীয় আলোচক কক্সটিভি
  • প্রকাশিত সময় : শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২০

কুরবানী ইসলামের অন্যতম নিদর্শন। কুরবানীর হুকুম সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন-
ﻓَﺼَﻞِّ ﻟِﺮَﺑِّﻚَ ﻭَﺍﻧْﺤَﺮْ ؕ
কাজেই তুমি তোমার প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে সালাত আদায় কর এবং কুরবানী কর। (সূরা কাউছার ২ আয়াত৷)
আল্লাহ তাআলা আরো ইরশাদ করেন-
ﻗُﻞْ ﺍِﻥَّ ﺻَﻠَﺎﺗِﻰْ ﻭَﻧُﺴُﻜِﻰْ ﻭَ ﻣَﺤْﻴَﺎﻯَ ﻭَﻣَﻤَﺎﺗِﻰْ ﻟِﻠّٰﻪِ ﺭَﺏِّ ﺍﻟْﻌٰﻠَﻤِﻴْﻦَۙ .
বল, আমার নামায, আমার কুরবানী, আমার জীবন ও আমার মরণ জগত সমূহের প্রতিপালক আল্লাহ তায়ালারই জন্য৷ (সূরা আনআম ১৬২ আয়াত৷)
আল্লাহ তায়ালা আরো ইরশাদ করেন-
ﻭَﻟِﻜُﻞِّ ﺍُﻣَّﺔٍ ﺟَﻌَﻠْﻨَﺎ ﻣَﻨْﺴَﻜًﺎ ﻟِّﻴَﺬْﻛُﺮُﻭﺍ ﺍﺳْﻢَ ﺍﻟﻠّٰﻪِ ﻋَﻠٰﻰ ﻣَﺎ ﺭَﺯَﻗَﻬُﻢْ ﻣِّﻦْۢ ﺑَﻬِﻴْﻤَﺔِ ﺍﻟْﺎَﻧْﻌَﺎﻡِ ؕ
আমি প্রত্যেক জাতীর জন্য কুরবানী নির্ধারন করে দিয়েছি৷ যাতে আমি তাদেরকে জিবনোপকরণ স্বরুপ যেসব চতুষ্পদ জন্তুু দিয়েছি, তা যবেহ করার মাধ্যমে যেন আল্লাহর নাম উচ্চারন করে৷ (সুরাহ হজ ৩৪ আয়াত)
আল্লাহ তায়ালা আরো ইরশাদ করেন-
ﻟَﻦْ ﻳَّﻨَﺎﻝَ ﺍﻟﻠّٰﻪَ ﻟُﺤُـﻮْﻣُﻬَﺎ ﻭَﻟَﺎ ﺩِﻣَﺎٓﺅُﻫَﺎ ﻭَﻟٰـﻜِﻦْ ﻳَّﻨَﺎﻟُﻪُ ﺍﻟﺘَّﻘْﻮٰﻯ ﻣِﻨْﻜُﻢْؕ .
তোমাদের কুরবানীর পশুর গোশত ও রক্ত আল্লাহর কাছে পৌঁছেনা৷ বরং পৌঁছে তোমাদের তাকওয়া৷ (সুরাহ হজ ৩৭ আয়াত)
১৷ মাসআলাঃ
#কুরবানীর_বিধানঃ
সামর্থবানদের উপর প্রতি বছর কুরবানী করা ওয়াজিব৷ আর সামর্থ থাকা সত্যেও কুরবানী তরককারী ফাসিক৷ কুরবানী তরক কারীদের কঠোর নিন্দা করে হাদীস শরীফে বর্ণিত হয়েছে-
ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﻫُﺮَﻳْﺮَﺓَ، ﺃَﻥَّ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ـ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ـ ﻗَﺎﻝَ ” ﻣَﻦْ ﻛَﺎﻥَ ﻟَﻪُ ﺳَﻌَﺔٌ ﻭَﻟَﻢْ ﻳُﻀَﺢِّ ﻓَﻼَ ﻳَﻘْﺮَﺑَﻦَّ ﻣُﺼَﻼَّﻧَﺎ ” .
হযরত আবু হুরায়রা রাযিঃ থেকে বর্ণিত৷
হযরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সামর্থ্য থাকা সত্তেও কুরবানী করেনা, সে যেন আমাদের ঈদগাহের কাছেও না আসে। সনদ হাসান৷ (সুনানে ইবনে মাজাহ ৩১২৩, ৩১২৫ হাদীস৷ মুসনাদে আহমাদ ৮০৭৪ হাদীস৷ আশরাফুল হিদায়া ৯/৪৭১ পৃষ্ঠা৷)
২৷ মাসআলাঃ
#কুরবানী_যাদের_উপর_ওয়াজিবঃ
প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থমস্তিষ্ক নেসাবের মালিক মুসলিম নর-নারীর উপর কুরবানী ওয়াজিব৷ অর্থাৎ যে ব্যক্তি ১০ই যিলহাজ্ব ফযর থেকে ১২ই যিলহাজ্ব সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনের অতিরিক্ত নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হবে তার উপর কুরবানী ওয়াজিব হবে৷
(সুনানে আবু দাউদ ২৭৮৮ হাদীস৷ সুনানে ইবনে মাজাহ ৩১২৪ হাদীস৷ আল মুহীতুল বুরহানী ৮/৪৫৫ পৃষ্ঠা৷)
৩৷ মাসআলাঃ
#কুরবানী_যাদের_উপর_ওয়াজিব_নয়ঃ
নাবালেগ ও পাগল নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলেও তাদের উপর কুরবানী ওয়াজিব নয়। তবে তাদের অভিভাবক নিজ সম্পদ দ্বারা তাদের পক্ষে থেকে কুরবানী করলে সহীহ হবে৷ (ফতোয়ায়ে কাযীখান ৩/৩৪৫ পৃষ্ঠা৷ বাদায়েউস সানায়ে ৪/১৯৬ পৃষ্ঠা৷ আশরাফুল হিদায়া ৯/৪৭৮ পৃষ্ঠা৷)
৪৷ মাসআলাঃ
মুসাফিরের উপর কুরবানী ওয়াজিব নয়। তবে যে সকল হাজী মক্কা, মিনা ও মুযদালিফায় কুরবানীর সময় ১৫ দিন থাকবে তারা মুকীম। নেসাবের মালিক হলে হজ্বের কুরবানী ব্যতীত ঈদুল আযহার কুরবানীও তাদের উপর ওয়াজিব হবে৷ (সহীহুল বুখারী ৫৫৪৮ হাদীস৷ ইমদাদুল ফতোয়া ২/১৬৬ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে মাদানিয়া ৫/৩৪৩ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে কাযীখান ৩/৩৪৪ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে কাসেমীয়া ১/৩৬৯ পৃষ্ঠা৷)
৫৷ মাসআলাঃ
ঋনগ্রস্থ ব্যক্তির উপর কুরবানী ওয়াজিব নয়৷ অর্থাৎ যার সম্পদ ও ঋন সমান বা বেশী,তার উপর কুরবানী ওয়াজিব নয়৷ তবে কুরবানী করলে সহীহ হবে৷ (ফতোয়ায়ে ইউনুছিয়া ২/৫৬৩ পৃষ্ঠা৷ বেহেশতী জেওর ৩/২৯৬ পৃষ্ঠা৷)
৬৷ মাসআলাঃ
গরীব মিসকিন বা নেসাবের মালিক নয় এমন ব্যক্তির উপরও কুরবানী ওয়াজিব নয়। তবে তারা কুরবানী করলে সহীহ হবে৷ (বাদায়েউস সানায়ে ৪/১৯২ পৃষ্ঠা৷ আশরাফুল হিদায়া ৯/৬৬৭ পৃষ্ঠা৷ আল কুদুরী ২/২৩৮ পৃষ্ঠা৷)

৭৷ মাসআলাঃ
#কুরবানীর_নেসাবঃ
কুরবানীর নেসাব হলো-
১৷ সাড়ে সাত (৭.৫) ভরি স্বর্ণ৷
২৷ সাড়ে বায়ান্ন (৫২.৫) ভরি রূপা৷
৩৷ সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণ বা সাড়ে বায়ান্ন ভরি রুপার যে কোন একটির সমমূল্য পরিমান টাকা৷
৪৷ সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণ বা বায়ান্ন ভরি রূপার সমমূল্য পরিমাণ ব্যবসায়ী পন্য৷
৫৷ সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণ বা সাড়ে বায়ান্ন ভরি রূপার সমমূল্য পরিমাণ প্রয়োজন অতিরিক্ত সম্পদ৷
উল্লেখিত পাঁচটি সম্পদের প্রত্যেকটিই পরিপূর্ণ নেসাব৷ তবে কারো কাছে যদি উক্ত সম্পদ সমূহের প্রত্যেকটির কিছু করে অংশ থাকে যেমন কিছু স্বর্ণ, কিছু রূপা, কিছু টাকা, কিছু ব্যবসায়ী পন্য এবং কিছু গচ্ছিত সম্পদ, তবে সবগুলো মিলিয়ে যদি রূপার নেসাব পরিমান হয় তাহলে সে নেসাবের মালিক হিসেবে গন্য হবে৷ (তাফসীরে কাবীর ৩২/১৩২ পৃষ্ঠা৷ তাফসীরে রুহুল মায়ানী ১৫/৩১৬ পৃষ্ঠা৷ সহীহু মুসলিম ১/৩১৫ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে তাতারখানিয়া ১৭/৪০৫ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে কাসেমীয়া ১/৩৪৮ পৃষ্ঠা৷)
৮৷ মাসআলাঃ
শুধু স্বর্ণ ব্যতীত অন্য সকল সূরতেই রূপার নেসাব ধর্তব্য হবে৷ যেমন কারো কাছে দুই ভরি স্বর্ণ ও ১-টাকা রয়েছে৷ শুধু ১-টাকা থাকার কারনে তার নেসাব সোনা থেকে রূপার দিকে পরিবর্তন হবে। কেননা তার মালিকানায় দুই প্রকার সম্পদ জমা হয়েছে। আর এই দুই প্রকার সম্পদের মুল্যমান যেহেতু সাড়ে বায়ান্ন ভরি রুপার মূল্য থেকে বেশী, তাই সে নেসাবের মালিক বলে গন্য হবে৷ (ফতোয়ায়ে উসমানী ৩/৬৯ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে শামী ২/২৯৯ পৃষ্ঠা৷)
৯৷ মাসআলাঃ
টাকা-পয়সা, সোনা-রূপা, অলঙ্কার, বসবাস ও খোরাকির প্রয়োজনে আসেনা এমন জমি, প্রয়োজনের অতিরিক্ত বাড়ি, ব্যবসায়ীক পণ্য ও অপ্রয়োজনীয় সকল আসবাবপত্র কুরবানীর নেসাবের ক্ষেত্রে হিসাবযোগ্য হবে। (আদ দুররুল মুখতার ৯/৫৫২ পৃষ্ঠা৷)
১০৷ মাসআলাঃ
কুরবানীর নেসাব পুরো বছর থাকা জরুরী নয়! বরং কুরবানীর তিন দিনের মধ্যে যে কোনো দিন থাকলেই কুরবানী ওয়াজিব হবে। (বাদায়েউস সানায়ে ৪/১৯৬ পৃষ্ঠা৷ বেহেশতী জেওর ৩/২৯৬ পৃষ্ঠা৷)
১১৷ মাসআলাঃ
#হাজাতে_আছলিয়ার_পরিচয়ঃ
হাজাতে আছলিয়ার
পরিচয় হলো- মানুষের জীবন-যাপনে যা অত্যাবশ্যকীয় এবং দৈনন্দিন প্রয়োজনে যা ব্যবহারে আসে, তাই হাজাতে আছলিয়া বা নিত্যপ্রয়োজনীয় সম্পদ৷ আর ব্যক্তি বিশেষে হাজাতে আসলিয়া বিভিন্ন রকম হয়ে থাকে। (ফতোয়ায়ে শামী ৫/১৯৮ পৃষ্ঠা৷ বেহেশতী জেওর ৩/২৮৬ পৃষ্ঠা৷)
১২৷ মাসআলাঃ
বসতবাড়ি, ঘরের আসবাবপত্র, পরিধানের কাপড়, ব্যবহারের গাড়ি, রান্না-বান্নার কাজে ব্যবহৃত হাড়ি-পাতিল, ডেগ ও বাসনপত্র ইত্যাদি হাজাতে আছলিয়া তথা নিত্যপ্রয়োজনীয় সম্পদের মধ্যে গন্য হবে৷ তবে বড় বড় ডেগ, বড় বড় বিছানা ইত্যাদি যা দৈনন্দিন কাজে ব্যবহার হয়না বরং দু-এক বছরে কখনও অনুষ্ঠানে প্রয়োজন হয়, তা হাজাতে আছলিয়ার মধ্যে গন্য হবেনা৷ (ফতোয়ায়ে শামী ৫/১৯৮ পৃষ্ঠা৷ বেহেশতী জেওর ৩/২৮৬ পৃষ্ঠা৷)
১৩৷ মাসআলাঃ
ঘরে সাজিয়ে রাখা আসবাবপত্র যেমন কাপ-প্রিচ, জগ-গ্লাশ, চেয়ার-টেবিল ইত্যাদি যা সারা বছরে একবারও ব্যবহার করা হয়না, তাও হাজাতে আছলিয়ার মধ্যে গন্য হবেনা৷ (ফতোয়ায়ে শামী ৫/১৯৮ পৃষ্ঠা৷ বেহেশতী জেওর ৩/২৮৬ পৃষ্ঠা৷)
১৪৷ মাসআলাঃ
ঘরের আলমারিতে সাজিয়ে রাখা মহিলাদের শাড়ী, কাপড় ইত্যাদি যা বছরে একবারও ব্যবহার করা হয়না, তাও হাজাতে আছলিয়ার মধ্যে গন্য হবেনা৷ (ফতোয়ায়ে শামী ৫/১৯৮ পৃষ্ঠা৷ বেহেশতী জেওর ৩/২৮৬ পৃষ্ঠা৷)
১৫৷ মাসআলাঃ
কারো ৫০ বিঘা জায়গা রয়েছে। এতে চাষাবাদি করে যে ফসল হয়, সবগুলোই তার সংসারে খরচে হয়ে যায়। তাহলে পুরো ৫০ বিঘা জমি তার জন্য হাজাতে আছলিয়া তথা নিত্যপ্রয়োজনীয়। পক্ষান্তরে কারো ১০ বিঘা জায়গা রয়েছে। যার ৮ বিঘার ফসলে তার সংসার চলে যায়৷ তাহলে ২ বিঘা জমি তার জন্য প্রয়োজনতিরিক্ত সম্পদ৷ যা নেসাবের মধ্যে গন্য হবে৷ (আহসানুল ফতোয়া ৭/৫০৬ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে শামী ৫/১৯৮ পৃষ্ঠা৷)
১৬৷ মাসআলাঃ
কারো ১০-টি বাড়ি রয়েছে। যার ভাড়া দ্বারা সে জীবিকা নির্বাহ করে। সংসার বড় হবার কারনে সকল টাকাই ব্যয় হয়ে যায়৷ তবে ১০টি বাড়ী তার হাজাতে আছলিয়ার মধ্যে গন্য হবে। পক্ষান্তরে কারো দুটি ফ্ল্যাট রয়েছে। যার একটির ভাড়া দ্বারা তার সংসার ভালভাবে চলে, তবে অন্য ফ্ল্যাটটি তার জন্য প্রয়োজনতিরিক্ত সম্পদ৷ যা নেসাবের মধ্যে গন্য হবে৷ (ফতোয়ায়ে শামী ৫/১৯৮ পৃষ্ঠা৷ আহসানুল ফতোয়া ৭/৫০৬ পৃষ্ঠা৷)
১৭৷ মাসআলাঃ
কাজের জন্য চাকর নওকর ও ব্যবহারের যানবাহন৷ যা প্রয়োজনে একাধিকও হতে পারে৷ তা হাজাতে আছলিয়ার মধ্যে গন্য হবে৷ অনুরুপভাবে
পেশাজীবীদের পেশার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সামগ্রী যেমন গরু, ট্রাক্টর, লাঙ্গল-জোয়াল, কুদাল ইত্যাদিও হাজাতে আছলিয়ার মধ্যে গন্য হবে৷ (ফতোয়ায়ে শামী ৫/১৯৮ পৃষ্ঠা৷ বেহেশতী জেওর ৩/২৮৬ পৃষ্ঠা৷)
১৮৷ মাসআলাঃ
ব্যবহারিক কম্পিউটার, ডেক্সটপ, লেপটপ ইত্যাদি হাজাতে আছলিয়ার মধ্যে গন্য হবে৷ প্রক্ষান্তরে
রেডিও-টেলিভিশন, সিডি-বিসিডি ইত্যাদি হাজাতে আছলিয়ার মধ্যে গন্য হবেনা৷ (ফতোয়ায়ে শামী ৫/১৯৮ পৃষ্ঠা৷ বেহেশতী জেওর ৩/২৮৬ পৃষ্ঠা৷)
১৯৷ মাসআলাঃ
ব্যবহারিক মোবাইল, ঘড়ি, চশমা ইত্যাদি যত দামিই হোক একাধিক হলেও হাজাতে আছলিয়ার মধ্যেই গন্য হবে৷ (ফতোয়ায়ে শামী ৫/১৯৮ পৃষ্ঠা৷ বেহেশতী জেওর ৩/২৮৬ পৃষ্ঠা৷)
২০৷ মাসআলাঃ
আলেম ও তালেবে এলেমের কিতাবাদি যত দামিই হোক না কেন তা হাজাতে আছলিয়ার মধ্যে গন্য হবে। তবে ব্যাবসার জন্য হলে নেসাবের মধ্যে গন্য হবে৷ (ফতোয়ায়ে শামী ৫/১৯৮ পৃষ্ঠা৷ বেহেশতী জেওর ৩/২৮৬ পৃষ্ঠা৷)
২১৷ মাসআলাঃ
#কুরবানীর_পশুঃ
ছয় প্রকার পশু দ্বারা কুরবানী করা যায়ঃ
১৷ উট৷
২৷ গরু৷
৩৷ মহিষ৷
৪৷ ছাগল৷
৫৷ ভেড়া৷
৬৷ দুম্বা৷
এছাড়া অন্য কোন পশু দ্বারা কুরবানী সহীহ হবেনা৷ (ফতোয়ায়ে কাযীখান ৩/৩৪৮ পৃষ্ঠা৷ বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০৫ পৃষ্ঠা৷ আল হিদায়া ৪/১৫০ পৃষ্ঠা৷)
২২৷ মাসআলাঃ
#কুরবানীর_পশুর_বয়সঃ
ছাগল, ভেড়া ও দুম্বার বয়স চন্দ্রমাস হিসেবে কমপক্ষে পূর্ন এক বছর হতে হবে। তবে ছয় মাসের ভেড়া ও দুম্বা যদি মোটা-তাজায় দেখতে এক বছরের মতই দেখা যায়, তাহলে কুরবানী সহীহ হবে। তবে ছাগলের বয়স এক বছরের কম হলে কুরবানী সহীহ হবেনা৷
(সুনানে আবু দাউদ ২৭৯৯ হাদীস৷ সুনানে ইবনে মাজাহ ৩১৩৯ হাদীস৷ ফতোয়ায়ে কাযীখান ৩/৩৪৮ পৃষ্ঠা৷)
২৩৷ মাসআলাঃ
গরু ও মহিষের বয়স চন্দ্রমাস হিসাবে কমপক্ষে দুই বছর হতে হবে। এর কম হলে কুরবানী সহীহ হবেনা।(সুনানে নাসায়ী ৪৩৭৮ হাদীস৷ বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০৫ পৃষ্ঠা৷)
২৪৷ মাসআলাঃ
উটের বয়স চন্দ্রমাস হিসাবে কমপক্ষে পাঁচ বছর হতে হবে। এর কম হলে কুরবানী সহীহ হবেনা৷ (ইলাউস সুনান ৭/২৪৫ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে কাযীখান ৩/৩৪৮ পৃষ্ঠা৷)
২৫৷ মাসআলাঃ
বিক্রেতা যদি পশুর বয়স পূর্ন হয়েছে বলে সাক্ষ্য দেয় এবং পশুর শারীরীক গঠন দেখেও যদি তেমনই মনে হয়, তবে বিক্রেতার কথার উপর আস্থা রেখে সে পশু ক্রয় করা এবং তা দ্বারা কুরবানী করা সহীহ হবে। (ফতোয়ায়ে শামী ৫/২২৫ পৃষ্ঠা৷)
২৬৷ মাসআলাঃ
#শরীকী_কুরবানীঃ
ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা এ তিন প্রকার পশু দ্বারা কেবল একজনের পক্ষ থেকে কুরবানী করা যায়৷ এ তিন প্রকার পশুতে শরীকী কুরবনী সহীহ হবেনা৷ (সহীহুল বুখারী ৫৫৫৩ হাদীস৷ ফতোয়ায়ে শামী ৫/২০১ পৃষ্ঠা৷)
২৭৷ মাসআলাঃ
উট, গরু ও মহিষে সর্বোচ্চ সাতজন পর্যন্ত শরীক হতে পারবে। সাতের অধিক শরীক হলে, কারো কুরবানী সহীহ হবেনা। তবে সাতের কম জোড় বা বিজোড় যে কোন সংখ্যক যেমন দুই, তিন, চার, পাঁচ ও ছয় শরীক হতে পারবে। (সুনানে আবু দাউদ ২৮০৮ হাদীস৷ সুনানে ইবনে মাজাহ ৩১৩২ হাদীস৷
ফতোয়ায়ে শামী ৫/২০০ পৃষ্ঠা৷ বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০৭ পৃষ্ঠা৷)
২৮৷ মাসআলাঃ
সাত ভাগে কুরবানী করলে সবার ভাগ সমান হতে হবে। কারো ভাগ এক সপ্তমাংশের কম হতে পারবে না। যেমন কারো আধা ভাগ কারো দেড় ভাগ এমন হলে কারো কুরবানী সহীহ হবেনা। (খোলাসাতুল ফতোয়া ৪/৩১৫ পৃষ্ঠা৷
আহসানুল ফতোয়া ৭/৫০৭ পৃষ্ঠা৷ বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০৭ পৃষ্ঠা৷)
২৯৷ মাসআলাঃ
শরীকী কুরবানী করলে, সকলের নিয়ত আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হতে হবে। অন্যথায় যদি কোন শরীকের নিয়ত গলদ থাকে, যেমন লোক দেখানো বা গোশত খাওয়া ইত্যাদি, তবে করো কুরবানী সহীহ হবেনা। তাই শরীক নির্বাচনের ক্ষেত্রে খুবই সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত (সহীহুল বুখারী ৫৫৪৯ হাদীস৷ ফতোয়ায়ে কাযীখান ৩/৩৪৯ পৃষ্ঠা৷ বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০৮ পৃষ্ঠা৷)
৩০৷ মাসআলাঃ
কোন শরীকের পূরো বা অধিকাংশ উপর্জন যদি হারাম হয়, অথবা কেউ হারাম উপার্জন দ্বারা শরীক হয়, তাহলে কারো কুরবানী সহীহ হবেনা।
(ফতোয়ায়ে মাহমুদিয়া ২৬/৩০৮ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে হক্কানিয়া ৬/৪৮১ পৃষ্ঠা৷ কিফয়াতুল মুফতী ৮/২০৫ পৃষ্ঠা৷)
৩১৷ মাসআলাঃ
সুদখোর ও ঘোষখোরের সঙ্গে কুরবানী সহীহ হবেনা৷ তবে সে যদি হালাল টাকা দিয়ে শরীক হয়, তবে কুরবানী সহীহ হবে৷ (ফতোয়ায়ে মাহমুদিয়া ২৬/৩০৮ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে হক্কানিয়া ৬/৪৮১ পৃষ্ঠা৷
কিফয়াতুল মুফতী ৮/২০৫ পৃষ্ঠা৷)
৩২৷ মাসআলাঃ
কুরবানীর পশু ক্রয় করার পুর্বেই অংশীদার নির্দিষ্ট করে নেয়া উচিত৷ তবে ধনী ব্যক্তি পশু ক্রয় করার পরও অংশীদার শরীক করতে পারবে৷ কিন্তু অনুত্তম হবে৷ আর গরীব ব্যক্তি অর্থাৎ তার উপর কুরবানী ওয়াজিব নয় সে পশু ক্রয় করার পর কাউকে শরীক করতে পারবে না। তবে পশু ক্রয়ের পুর্বে যদি শরীকের নিয়ত থাকে তাহলে অংশীদার নিতে পারবে৷ (মুয়াত্তা মালিক ১০২৮ হাদীস৷ আল-হিদায়া ৪/৩৭৭ পৃষ্ঠা৷ বাদায়েউস সানায়ে ৪/২১০ পৃষ্ঠা৷)
৩৩৷ মাসআলাঃ
কুরবানীর পশু জবেহ করার পর কাউকে অংশীদার শরীক করা জায়েয হবেনা৷ যদি করে তবে কারো কুরবানী সহীহ হবেনা৷ (ফতোয়ায়ে মাহমুদিয়া ৪/৩০৯ পৃষ্ঠা৷ বাদায়েউস সানায়ে ৪/২১০ পৃষ্ঠা৷)
৩৪৷ মাসআলাঃ
কুরবানীর পূর্বে কোন শরীকের মৃত্যু হলে তার ওয়ারিসরা যদি মৃতের পক্ষ থেকে কুরবানীর অনুমতি দেয়, তবে জায়েয হবে। অন্যথায় ঐ শরীকের টাকা ফেরত দিতে হবে। তবে এক্ষেত্রে তার স্থলে অন্য কাউকেও শরীক করতে পারবে। (ফতোয়ায়ে কাযীখান ৩/৩৫১ পৃষ্ঠা৷ বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০৯ পৃষ্ঠা৷
৩৫৷ মাসআলাঃ
#কুরবানীর_সাথে_অন্য_ইবাদতের_নিয়
তে_শরীক_হওয়ার_বিধানঃ
কুরবানীর পশুতে অন্য নিয়তে যারা শরীক হতে পারবে৷
১৷ আকীকার নিয়তে৷
২৷ ওলীমার নিয়তে৷
৩৷ হজ্বের কুরবানীর নিয়তে৷
এছাড়া অন্য কোন নিয়তে কুরবানীর পশুতে শরীক হওয়া জায়েয হবেনা৷ (আহসানুল ফতোয়া ৭/৫৩৬ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে রহমানিয়া ১/৪৯৭ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে ইউনুছিয়া ২/৫৪৩ পৃষ্ঠা৷)
৩৬৷ মাসআলাঃ
#যেসকল_পশু_দ্বারা_কুরবানী_সহীহ_হয়নাঃ
কুরবানীর পশু মোটা-তাজা হওয়া উত্তম৷ এবং সর্বপ্রকার দোষ-ত্রুটি থেকে মুক্ত হওয়া জরুরী।(সুনানে আবু দাউদ ২৭৯২ হাদীস৷ সুনানে ইবনে মাজাহ ৩১৪৩ হাদীস৷ আল-হিদায়া ৪/৪৩১ পৃষ্ঠা৷)
৩৭৷ মাসআলাঃ
যে পশু এত দূর্বল ও রুগ্ন যে জবাইয়ের স্থান পর্যন্ত হেটে যেতে পারেনা, সে পশু দ্বারা কুরবানী সহীহ হবেনা। (সুনানে আবু দাউদ ২৮০২ হাদীস৷ সুনানে ইবনে মাজাহ ৩১৪৪ হাদীস৷)
৩৮৷ মাসআলাঃ
যে পশুর শিং একেবারে গোড়া থেকে ভেঙ্গে গেছে, সে পশু দ্বারাও কুরবানী সহীহ হবেনা৷ তবে যদি অর্ধেক শিং বা কিছু শিং ফেটে বা ভেঙ্গে যায় অথবা শিং এখনো উঠেইনি তবে এরুপ পশু দ্বারাও কুরানী সহীহ হবে। (সুনানে আবু দাউদ ২৮০৪ হাদীস৷ সুনানে ইবনে মাজাহ ৩১৪৫ হাদীস৷ ফতোয়ায়ে শামী ৫/২৮০ পৃষ্ঠা৷)
৩৯৷ মাসআলাঃ
যে পশুর দুটি চোঁখই অন্ধ বা একটি চোঁখ পূরো অন্ধ বা একটি চোঁখের তিন ভাগের এক ভাগ কিংবা আরো বেশি দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হয়ে গেছে, সে পশু দ্বারাও কুরবানী সহীহ হবেনা। (সুনানে আবু দাউদ ২৮০২ হাদীস৷ সুনানে ইবনে মাজাহ ৩১৪৪ হাদীস৷
বাদায়েউস সানায়ে ৪/২১৪ পৃষ্ঠা৷)
৪০৷ মাসআলাঃ
যে পশুর কোন দাঁত নেই বা এত বেশি দাঁত পড়ে গেছে যে,খাবার চিবিয়ে খেতে পারে না,এমন পশু দ্বারও কুরবানী সহীহ হবেনা। (সুনানে আবু দাউদ ২৮০৩ হাদীস৷ ফতোয়ায়ে শামী ৫/২৮৩ পৃষ্ঠা৷)
৪১৷ মাসআলাঃ
যে পশুর লেজ, কান বা অন্য কোন অংগের এক তৃতীয়াংশ বা তদপেক্ষা বেশি কেটে গেছে, সে পশু দ্বারাও কুরবানী সহীহ হবেনা। তবে যে পশুর জন্ম থেকেই কান ছোট সে পশু দ্বারা কুরবানী সহীহ হবে। আর যে পশুর জন্মগতভাবেই কান নেই, তা দ্বারা কুরবানী সহীহ হবেনা। (সুনানে আবু দাউদ ২৮০৩ হাদীস৷ সুনানে ইবনে মাজাহ ৩১৪২ হাদীস৷ সুনানে তিরমিযী ১৪৯৮ হাদীস৷ ফতোয়ায়ে শামী ৫/২৮২ পৃষ্ঠা৷)
৪২৷ মাসআলাঃ
যে পশু তিন পায়ে ভর দিয়ে চলে, এক পা মাটিতে রাখতে পারেনা বা এক পায়ে কোনরুপ ভর দিতে পারেনা, এমন পশু দ্বারাও কুরবানী করা সহীহ হবেনা। তবে পা দিয়ে খুড়িয়ে খুড়িয়ে যদি চলতে পারে, তবে কুরবানী করা সহীহ হবে। (সুনানে আবু দাউদ ২৮০৩ হাদীস৷ সুনানে ইবনে মাজাহ ৩১৪৪ হাদীস৷ ফতোয়ায়ে শামী ৫/২৮১ পৃষ্ঠা৷)
৪৩৷ মাসআলাঃ
যে পশু এমন শুষ্ক যে, তার হাড়ের মগজ শুকিয়ে গেছে, সে পশু দ্বারা কুরবানী সহীহ হবেনা৷ তবে হাড়ের মগজ না শুকালে কুরবানী সহীহ হবে।(সুনানে আবু দাউদ ২৮০২ হাদীস৷ সুনানে ইবনে মাজাহ ৩১৪৪ হাদীস৷ ফতোয়ায়ে শামী ৫/২৮০ পৃষ্ঠা৷)
৪৪৷ মাসআলাঃ
যে পশুর এলার্জির কারনে গোশত নষ্ট হয়ে গেছে, সে পশু দ্বারা কুরবানী সহীহ হবেনা। তবে গোশত যদি নষ্ট না হয়ে থাকে, তবে কুরবানী সহীহ হবে। (সুনানে নাসায়ী ৪৩৭১ হাদীস৷ ফতোয়ায়ে শামী ৫/২৮০ পৃষ্ঠা৷ আল কুদুরী ২/২৪২ পৃষ্ঠা৷)
৪৫৷ মাসআলাঃ
গর্ভবতী ও দুগ্ধবতী পশু দ্বারা কুরবানী করা মাকরুহ। তবে কেউ কুরবানী করলে সহীহ হবে৷ কিন্তু গর্ভবতী পশু জবাই করার পর যদি বাচ্চা জীবীত পাওয়া যায়, তাহলে সে বাচ্চা জীবীত সদকাহ করে দেয়া ওয়াজিব হবে৷ (সুনানে ইবনে মাজাহ ৩১৮০ হাদীস৷ ফতোয়ায়ে তাতার খানিয়া ৩/৩৬৭ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে কাযীখান ৩/৩৫০ পৃষ্ঠা৷ মালাবুদ্ধা মিনহু ২৭৬ পৃষ্ঠা৷)
৪৬৷ মাসআলাঃ
কেউ কুরবানীর জন্য ভালো পশু ক্রয় করার পর যদি তাতে এমন দোষ দেখতে পায় যে, যার কারনে কুরবানী সহীহ হবেনা,তবে ঐ পশু দ্বারা কুরবানী সহীহ হবে না। বরং ভিন্ন একটি পশু কুরবানী করতে হবে। তবে ক্রেতা যদি গরীব হয়,তাহলে ঐ ত্রুটিযুক্ত পশু দ্বারাই কুরবানী সহীহ হবে। (ফতোয়ায়ে শামী ৫/২৮৪ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে কাসেমিয়া ১/৩৫৪ পৃষ্ঠা৷
খুলাসাতুল ফাতাওয়া ৪/৩১৯ পৃষ্ঠা৷)
৪৭৷ মাসআলাঃ
পশু জবাই করতে গিয়ে যদি ক্রটিযুক্ত হয়ে পড়ে, যেমন ধরতে বা বাধতে বা শুয়াতে গিয়ে পা ভেঙ্গে গেল ইত্যাদি তাহলে সে পশু দ্বারা কুরবানী সহীহ হবে।
(ফতোয়ায়ে শামী ৫/২৮৪ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে মাহমুদিয়া ৪/৩০৬ পৃষ্ঠা৷ আল কুদুরী ২/২৮২ পৃষ্ঠা৷)
৪৮৷ মাসআলাঃ
#কুরবানীর_পশু_থেকে_জবাইয়ের_পূর্বে_উপকৃত_হওয়ার_
বিধানঃ
কুরবানীর পশু ক্রয় বা নির্ধারণ করার পর তা থেকে কোনরুপ উপকৃত হওয়া জায়েয হবেনা। যেমন মালামাল বহন করা, হাল চাষ করা, আরোহন করা ইত্যাদি। তবে কেউ যদি কুরবানীর পশু থেকে উপকৃত হয়, তাহলে উপকারের বিনিময় যেমন হাল চাষ বা বোঝা বহনের মূল্য সদকাহ করে দেওয়া ওয়াজিব হবে৷ (মুসনাদে আহমাদ ২/১৪৬ পৃষ্ঠা৷
ফতোয়ায়ে কাযীখান ৩/৩৫৪ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে আলমগীরী ৫/৩০০ পৃষ্ঠা৷)
৪৯৷ মাসআলাঃ
কুরবানীর পশুর দুধ পান করা মাকরুহ৷ তবে দুধ দোহন না করলে যদি পশুর কষ্ট হয়, তবে দুধ দোহন করে তা সদকাহ করে দিবে৷ আর যদি দুধ দোহন করে নিজে খেয়ে ফেলে,তাহলে তার মূল্য সদকাহ করে দেওয়া মুস্তাহাব হবে৷ (মুসনাদে আহমাদ ২/১৪৬ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে কাযীখান ৩/৩৫৪ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে আলমগীরী ৫/৩০১ পৃষ্ঠা৷)
৫০৷ মাসআলাঃ
কুরবানীর পশু ক্রয় বা কুরবানীর জন্য নির্ধারন করার পর যদি জবাইয়ের পুর্বেই বাচ্চা প্রসব করে,তবে বাচ্চাটি জীবীত সদকাহ করে দেওয়া ওয়াজিব হবে৷ আর কেউ যদি বাচ্চাকেও জবাই করে ফেলে, তাহলে তার গোশত সদকাহ করা ওয়াজিব হবে৷ কিন্তু এরুপ ক্ষেত্রে জীবীত সদকাহ করাই উত্তম৷ (ফতোয়ায়ে কাযীখান ৩/৩৪৯ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে আলমগীরী ৫/৩০১ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে ইউনুছিয়া ২/৫৩৯ পৃষ্ঠা

ঠিকানা:
বায়তুন-নূর জামে মসজিদ
হাজীরপুল,৩নং পাঁচলাইশ ওয়ার্ড, বায়েজীদ বোস্তামী, চট্টগ্রাম
(জামেয়া দারুল মা’আরিফ আল ইসলামিয়া সংলগ্ন }

সংবাদটি আপনার ফেইসবুকে শেয়ার করুন...

এই ক্যাটাগরীর অন্যান্য সংবাদ :