বাংলাবাজারে ইয়াবা লুট, সর্বত্র তোলপাড়

কক্সটিভি প্রতিবেদক♦
  • প্রকাশিত সময় : সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২০

কক্সবাজার শহরের মাঝিরঘাটে এক কোটি পিস ইয়াবা লুটের চাঞ্চল্যকর ঘটনার ক’দিনের মাথায় আবারও ইয়াবা লুটের ঘটনা ঘটেছে বাংলাবাজার ষ্টেশনে।
সোমবার (২৭ জুলাই) সকাল ১১ টার দিকে প্রায় এক লাখ পিস ইয়াবা লুটের ঘটনা নিয়ে ওই এলাকায় দিনভর তোলপাড় চলছে। দুপুর থেকে ইয়াবা লুটের বিষয় নিয়ে বাংলাবাজার এলাকায় তোলপাড় চলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঝিলংজা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান টিপু সুলতান।

স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, বাংলাবাজার ও পিএমখালী এলাকা কেন্দ্রিক একটি ইয়াবা সিন্ডিকেট রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। ওই সিন্ডিকেটের দুই সদস্য পিএমখালী এলাকার করিম ও উখিয়ার কোটবাজার এলাকার হেলাল সোমবার সকাল ১১ টার দিকে বাংলাবাজার স্টেশনে আসে। এ সময় তাদের কাছে একটি পলিথিনে প্রায় ১ লাখ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটও ছিল। ইয়াবা ট্যাবলেটের বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে বাংলাবাজার এলাকার খোরশেদুল হক, দালাল বশির, জাহাঙ্গীর আলম ও শাহাজাহানের নেতৃত্বে ওই দুইজনকে হামলা চালিয়ে ইয়াবাগুলো ছিনিয়ে নেন। ইয়াবাগুলো ছিনিয়ে নেওয়ার পর করিম ও হেলালকে ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছেড়ে দেয় ইয়াবা ব্যবসায়ী দাবি করে। এরপর কৌশলে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করা হয় হেলাল ও করিমকে।

এ বিষয়ে ঝিলংজা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান টিপু সুলতান বলেন, সকালে বাংলাবাজার এলাকায় খোরশেদুল হক ও জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে ইয়াবা ট্যাবলেট লুটের ঘটনা ঘটেছে বলে শুনেছি। পরে বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখি, লুটের ঘটনা সত্য। এর আগেও খোরশেদুল হকের নেতৃত্বে বাংলাবাজার এলাকায় ইয়াবা লুটের ঘটনা ঘটেছিল। তাদের একটি সিন্ডিকেটও রয়েছে। ওই সিন্ডিকেটের বেশ কয়েকজন হত্যাসহ বিভিন্ন মামলার পলাতক আসামি।

ঘটনার বিষয়ে কক্সবাজার সদর থানার ওসি অপারেশন মাসুম খান বলেন, ইয়াবা ছিনিয়ে নেওয়ার বিষয়টি আমাদের কেউ অবগত করেনি। ঘটনাটি খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কক্সবাজার সদর থানার ওসি তদন্ত খায়রুজ্জামান বলেন, ইয়াবার বিষয়টি খোঁজ নিয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠাচ্ছি। যদি ঘটনা সত্য হয় তাহলে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি কক্সবাজার শহরের মাঝিরঘাট এলাকা থেকে এক কোটি পিস ইয়াবা লুটের ঘটনা ঘটেছিল। লুটের ঘটনাটি সর্বত্র তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এরপর পুলিশ ঘটনা নিয়ে তদন্ত করে লুট হওয়া দুই লাখ ইয়াবাও উদ্ধার করেছিল। আটক করেছিল বেশ কয়েকজন আসামীকে। ওই ইয়াবা লুটের মূলহোতা শহরের টেকপাড়া এলাকার জজ বাবুলের ছেলে মিজান ২০ জুলাই পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়। এর আগে ভারতের বেনাপুল সীমান্ত থেকে তাকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

সংবাদটি আপনার ফেইসবুকে শেয়ার করুন...

এই ক্যাটাগরীর অন্যান্য সংবাদ :