নাইক্ষ্যংছড়ির ৩টি ইটভাটা গুঁড়িয়ে দিয়েছে জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর

শফিউল শাহীন, বার্তা প্রধান কক্সটিভি
  • প্রকাশিত সময় : শুক্রবার, ৬ মার্চ, ২০২০

পার্বত্য বান্দরবার জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলোর ঘুমধুম ও সোনাইছড়ির ৩টি অনুমোদন বিহীন ৩টি অবৈধ ইট ভাটা গুড়িয়ে দিয়েছে জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এ অভিযান পরিচালনা করেন ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারক, বান্দরবান জেলার নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ কামরুল হোসেন চৌধুরী।

অভিযান শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ কামরুল ইসলাম বলেন, ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ (সংশোধিত-২০১৯) এর ৪,৬ ও ৮ ধারা লংঘনের দায়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ঘুমধুমের এএসবি ব্রিকস, মোঃ আসিফের ইউআরএম ব্রিকস, সোনাইছড়ির মারিগ্যাপাড়া প্রাইমারী স্কুল সংলগ্ন মনঞ্জুর আলমের মালিকাধীন এমএফজি ব্রিকস ফিল্ড ৩টি সম্পুর্ণ ভাবে এস্কাভেটর দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। অভিযানের সময় ভ্রাম্যমান আদালত এএসবি ব্রিকস ফিল্ডের মালিক আবুল কালামকে আড়াই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। বাকী ২টি ইটভাটার মালিকের বিরুদ্ধে নিয়মিত পরিবেশ আইনে মামলা রুজু করা হবে বলে তিনি জানান।

অভিযানকালে বান্দরবান পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক একেএম শামিউল আলম খুরশি বলেন, ইটভাটাগুলি পরিবেশ অধিদপ্তর হতে পরিবেশগত ছাড়পত্র, জেলা প্রশাসন হতে ইট পোড়ানো লাইসেন্স ব্যতীত পরিচালনা করা হচ্ছিল। এছাড়াও ইটভাটা গুলো লোকালয়ে এবং প্রাইমারী স্কুলের সাথে লাগোয়া। পরিবেশের ক্ষতিকারক ইটভাটা গুলো ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ অনুযায়ী অবস্থান গ্রহণযোগ্য নয়। তাই এসব ইটভাটা গুলোর বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, পর্যায়ক্রমে সকল অবৈধ ইটভাটা, পাহাড় কাটাসহ সকল ধরনের পরিবেশগত ক্ষতি বন্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

তিনি আরো বলেন, অভিযানের সময় ৩টি ইটভাটার ড্রাম চিমনি ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে এবং প্রস্তুতকৃত কাঁচা ইট গুঁড়িয়ে দিয়ে ফায়ার সার্ভিসের মাধ্যমে আগুন নিভিয়ে দেওয়া হয়েছে। যাতে ভবিষ্যতে আর এধরনের ভাটা স্থাপন করতে না পারে।

অভিযানকালে সাথে ছিলেন, বান্দরবান জেলার নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ মাসুদুর রহমান চৌধুরী, বান্দরবান পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক আবদুস সালাম, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও আনসার ব্যাটালিয়নের সদস্যরা।

সংবাদটি আপনার ফেইসবুকে শেয়ার করুন...

এই ক্যাটাগরীর অন্যান্য সংবাদ :

কক্সবাজারে মরণব্যাধি করোনা ভাইরাসের কারনে বাজারে হঠাৎ করেই হ্যান্ড স্যানিটাইজারের সঙ্কট দেখা দিয়েছে। ফলে মানবিক বিবেচনায় নিজেদের টাকায় হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরীর পর তা সাধারণ জনগনের মাঝে বিনামূল্যে বিতরণ করে বিরল দৃষ্টান্ত দেখিয়েছেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক ও ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ছাত্রলীগের সভাপতি মইন উদ্দিনের নেতৃত্বে একদল ছাত্রলীগ কর্মীর এমন মহতি উদ্যোগ সবার মাঝে প্রশংসা কুড়িয়েছে।
এর আগে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য সাধারণ মানুষের মাঝে সচেতনতা তৈরী সরূপ হাতকে জীবাণুমুক্ত রাখতে সারাদেশে হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরী এবং বিতরণের নির্দেশ দেয় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। এরপর নিজেদের তত্বাবধানে হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরির কাজ শুরু করে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা।
রোববার বিকেল থেকে কক্সবাজারে হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরির কাজে নামে ছাত্রলীগ। তারা ১ম ধাপে তিন শ’ বোতল স্যানিটাইজার তৈরি করে। পরবর্তীতে ছোট বড় আরো ২শ’ বোতল স্যানিটাইজার বানানো হয়। পর্যায়ক্রমে প্রয়োজন সাপেক্ষে আরো ৫শ’ স্যানিটাইজার এবং মাস্ক বানিয়ে সম্পন্ন মানবিক বিবেচনায় তা সাধারণ মানুষের মাঝে বিনামূল্যে বিতরণ করা হবে বলে জানিয়েছেন ছাত্রলীগ নেতা মইন। সমসাময়িক সঙ্কটময় মুহুর্তে ব্যতিক্রমী এমন মহৎ কাজের অন্যতম প্রধান উদ্যোক্তা জেলা ছাত্রলীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক ও ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ছাত্রলীগের সভাপতি মইন উদ্দীন জানায়, ফার্মাসির কয়েকজন শিক্ষার্থীর সহযোগিতায় হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরির উদ্যোগ নেন তারা। নিজেদের তৈরিকৃত এসব স্যানিটাইজার বিনামূল্যে সাধারণ মানুষের মাঝে বিতরণ করছেন। সবগুলো স্যানিটাইজার স্বাস্থ্যসম্মতভাবে তৈরী হচ্ছে বলেও জানান মইন উদ্দিন। এদিকে প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাস নিয়ে দেশের এই সংকটময় মুহুর্তে একজন ছাত্রলীগ নেতার এমন উদারতা শুধু কক্সবাজার নয়, সারাদেশের ছাত্র রাজনীতির ইতিহাসে অনন্য উচ্চতার মাইল ফলক হয়ে থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন এখানকার রাজনৈতিক বোদ্ধারা।

মানবতার ফেরিওয়ালা ছাত্রলীগ নেতা মইন