অব্যবস্থাপনার ভেড়াজাল ও লাল ফিতায় বন্দি ইনানী সি বিচ

ফারুক আহমদ, উখিয়া
  • প্রকাশিত সময় : সোমবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২০

সাগর কন্যা হিসেবে খ্যাত নান্দনিক জীববৈচিত্র্যে অপরূপ সৌন্দর্য ইনানী বিচ উন্নয়নে লাল ফিতা ফাইলবন্দি। পর্যটন মন্ত্রণালয় ও পর্যটন কর্পোরেশনের সদিচ্ছার অভাবে সম্ভাবনাময় পর্যটন স্পটটি যেভাবে আছে সেভাবেই পড়ে রয়েছে। উন্নয়নের ছোঁয়া বলতে কিছুই নেই। ভ্রমণ পিপাসু দেশী বিদেশী পর্যটকরা হতাশ হয়ে পড়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায় প্রতিবছর ইনানী সি বিচ ইজারা দিয়ে কক্সবাজার বিচ মানেজমেন্ট কমিটি লক্ষ লক্ষ টাকা রাজস্ব আদায় করে থাকে। নাগরিক সমাজের মতে বিপুল পরিমাণ টাকা আদায় করা হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উন্নয়নে সিকি পরিমাণ টাকা ব্যয় বা খরচ করছে না। অনেকের প্রশ্ন ইজারা খাতের টাকাগুলো যায় কোথায়।
কক্সবাজারের অন্যতম পর্যটন স্পট হচ্ছে ইনানী সী বিচ। এ ছাড়াও পাটুয়ারটেক, মোহাম্মদ শফির বিল সহ মন খালি পর্যন্ত একাধিক ট্যুরিজম স্পট রয়েছে। মেরিন ড্রাইভ দিয়ে সহজেই এসব ট্যুরিজম স্পটে পর্যটকরা ভ্রমণ করতে আসে।
সবুজ অরণ্য পাহাড়ঘেরা ইনানী সী-বীচ যেন অপূর্ব সৌন্দর্য হাতছানি। লাল কাঁকড়া ও পাথর বেষ্টিত এ বিচটি পর্যটকদের কাছে খুবই আকর্ষণীয়। বিশেষ করে সাগরের নীল জল রাশি ও সারি সারি ঝাউবন এবং পাথরের সাথে ঢেউয়ের গর্জন এক অপূর্ব মিতালী।


সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, প্রতিদিন হাজার হাজার দেশি-বিদেশি পর্যটক ইনানী পাটুয়ারটেক সহ বিভিন্ন স্পটে ভ্রমণ করতে আসে। কিন্তু অপরিষ্কার অপরিচ্ছন্ন ও সুযোগ-সুবিধা না থাকায় পর্যটকরা হতাশ হয়ে ফিরে যেতে হয়।
ভ্রমণে আসা ঢাকা স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্সের শিক্ষার্থী রাজিবুল হাসান ও রিয়াজুল মোবিন সোহাগ জানান পর্যটকদের জন্য ওয়াশরুম বা চেঞ্জ রুম না থাকায় পর্যটকদের কে চরম বিড়ম্বনায় পড়তে হয়।
সিলেট বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাহাত ইবনে সায়েম ও নাদিম মাহমুদ বলেন সম্ভাবনাময় ইনানী বিচে অবকাঠামো উন্নয়নসহ সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হলে পর্যটন খাত থেকে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় করা সম্ভব হতো।
খোঁজখবর নিয়ে জানা যায় বিগত ১২ বছর বা এক যুগের অধিক সময়েে ইনানী বীচে উন্নয়নের কোন ছোঁয়া লাগেনি। চোখে পড়ার মতো সরকারিভাবে অবকাঠামো গড়ে ওঠেনি। পর্যটন মন্ত্রণালয় কিংবা পর্যটন কর্পোরেশনের পক্ষে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, পর্যটকদের বিশ্রামাগার এমনকি গাড়ি পার্কিংয়ের কোন ব্যবস্থা করা হয়নি। এতে করে ভ্রমণে আসা পর্যটকরা যেমনি ভাবে বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছে তেমনি ভাবে চরম নাখোশ হয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করতেছে। বলতে গেলে অব্যবস্থাপনার বেড়াজালে ইনানী সী-বীচ এখন সৌন্দর্য হারাতে বসেছে।
এ ব্যয়পারে উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নিকারুজ্জামান চৌধুরী জানান পর্যটকদের নিরাপত্তায় ট্যুরিস্ট পুলিশের একাধিক টিম সহ ইনানী পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা সবসময় টহলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়াও ইনানী বীচ কে আধুনিক ও পর্যটন বান্ধব করতে নানা পরিকল্পনা তৈরী ও প্রণয়ন করে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরণ করা হয়েছে।

সংবাদটি আপনার ফেইসবুকে শেয়ার করুন...

এই ক্যাটাগরীর অন্যান্য সংবাদ :

কক্সবাজারে মরণব্যাধি করোনা ভাইরাসের কারনে বাজারে হঠাৎ করেই হ্যান্ড স্যানিটাইজারের সঙ্কট দেখা দিয়েছে। ফলে মানবিক বিবেচনায় নিজেদের টাকায় হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরীর পর তা সাধারণ জনগনের মাঝে বিনামূল্যে বিতরণ করে বিরল দৃষ্টান্ত দেখিয়েছেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক ও ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ছাত্রলীগের সভাপতি মইন উদ্দিনের নেতৃত্বে একদল ছাত্রলীগ কর্মীর এমন মহতি উদ্যোগ সবার মাঝে প্রশংসা কুড়িয়েছে।
এর আগে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য সাধারণ মানুষের মাঝে সচেতনতা তৈরী সরূপ হাতকে জীবাণুমুক্ত রাখতে সারাদেশে হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরী এবং বিতরণের নির্দেশ দেয় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। এরপর নিজেদের তত্বাবধানে হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরির কাজ শুরু করে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা।
রোববার বিকেল থেকে কক্সবাজারে হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরির কাজে নামে ছাত্রলীগ। তারা ১ম ধাপে তিন শ’ বোতল স্যানিটাইজার তৈরি করে। পরবর্তীতে ছোট বড় আরো ২শ’ বোতল স্যানিটাইজার বানানো হয়। পর্যায়ক্রমে প্রয়োজন সাপেক্ষে আরো ৫শ’ স্যানিটাইজার এবং মাস্ক বানিয়ে সম্পন্ন মানবিক বিবেচনায় তা সাধারণ মানুষের মাঝে বিনামূল্যে বিতরণ করা হবে বলে জানিয়েছেন ছাত্রলীগ নেতা মইন। সমসাময়িক সঙ্কটময় মুহুর্তে ব্যতিক্রমী এমন মহৎ কাজের অন্যতম প্রধান উদ্যোক্তা জেলা ছাত্রলীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক ও ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ছাত্রলীগের সভাপতি মইন উদ্দীন জানায়, ফার্মাসির কয়েকজন শিক্ষার্থীর সহযোগিতায় হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরির উদ্যোগ নেন তারা। নিজেদের তৈরিকৃত এসব স্যানিটাইজার বিনামূল্যে সাধারণ মানুষের মাঝে বিতরণ করছেন। সবগুলো স্যানিটাইজার স্বাস্থ্যসম্মতভাবে তৈরী হচ্ছে বলেও জানান মইন উদ্দিন। এদিকে প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাস নিয়ে দেশের এই সংকটময় মুহুর্তে একজন ছাত্রলীগ নেতার এমন উদারতা শুধু কক্সবাজার নয়, সারাদেশের ছাত্র রাজনীতির ইতিহাসে অনন্য উচ্চতার মাইল ফলক হয়ে থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন এখানকার রাজনৈতিক বোদ্ধারা।

মানবতার ফেরিওয়ালা ছাত্রলীগ নেতা মইন