সফলতার জন্য মা’য়ের দোয়া যথেষ্ট

সংবাদ কর্মীর নাম :
  • প্রকাশিত সময় : শনিবার, ১৮ জানুয়ারী, ২০২০

পৃথিবীর বুকে আমাদের একমাত্র নিরাপদ আশ্রয়স্থল ‘মা’। যত আবদার যত অভিযোগ সবই মায়ের কাছে। নাড়ী ছেড়া ধন সন্তানের জন্য দশ মাস দশ দিন শুধু নয়, মায়ের সারাটা জীবন উৎস্বর্গ করেও যেন মায়ের তৃপ্তি নেই। কিন্তু সেই মায়ের জন্য কতটুকু করতে পেরেছি আমরা? বৃদ্ধাশ্রম তো একটা সুসন্তানের মায়ের জায়গা হতে পারে না! মায়ের দোয়া সন্তানের জন্য কত বড় আর্শীবাদ তা আমরা অনেকেই হয়ত ভাবি না। মায়ের প্রতি যথাযথ দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে দোয়া অর্জন করে একটা সন্তান তার জীবন’টা বদলে নিতে পারে। তেমন কিছু অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করব আপনাদের সাথে ধারাবহিক ভাবে। শফিউল শাহীন। একজন সফল ব্যবসায়। যার লেখালেখি শুরু হয় আজ থেকে ১০বছর আগে। মায়ের সাথে তার জীবন থেকে নেওয়া অ’ভিজ্ঞতার শেষ পর্ব শে’য়ার করব আজ।

সন্তানকে যতটুকু সুশিক্ষা দেওয়ার তার কোনটা দিতে মা কুন্ঠা*বোধ করেননি। সৎ পথে চলার পরাম’র্শের সাথে কিভাবে সঠিক পথে জীবন গড়তে হবে তার উপযুক্ত শিক্ষাটা মা দিয়েছেন। দোয়া করে গেছেন জীবনের শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত সন্তানের জন্য। বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে জীবনের শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত সমস্ত পরিবারকে রেখেছেন স্নেহ মমতায়। নিজ সন্তানকে সতের বছর বয়সে সম্পত্তি তুলে দিয়েছিলেন ব্যবসার জন্য। সন্তানও সে সম্পত্তির যথাযথ সদ্যবহার করে সৎপথে উ’পার্জন করেছেন। মায়ের প্রতি কর্তব্যের কোন প্রকার অবহেলা করেননি সন্তান। শেষ সময় পর্যন্ত মায়ের পাশে থেকে সেবা করে গেছেন। মায়ের শেষ বিদায়ের আগ মুহুর্তের কিছু সৃত্মি যা আজও আব্দুল্লাহ মাহতাবের স্মরনে আসলে মায়ের জন্য অজান্তে দুচোখে অ’ঝোরে পানি ঝরতে থাকে।

মা মারা যাওয়ার বেশ কিছু দিন আগে থেকেই অসুস্থ ছিলেন। বিছানায় পড়ে গিয়েছিলেন সম্পূর্ণ’রুপে। উঠতে পারতেন না বিছানা থেকে। এমনকি বিছানাতেই প্রসাব পায়খানা করেছেন। একদিন রাতের কথা মায়ের বিছানার পাশে গিয়ে দেখলেন মা খুব অস্ব’স্থ্যি বোধ করছেন। মুখঅবয়বে তা স্পষ্ট। বেশ ক’ষ্ট হচ্ছে তা মায়ের চােখের দিকে তাকিয়ে বুঝতে অ*সুবিধা হল না। আস্তে করে মায়ের মুখ থেকে খুব অসহায় উচ্চারন তুমি এসেছ বাবা? আমি তো একটা কাজ করে ফেলেছি অজান্তেই। বিছানায় প্রসাব করে ভিজিয়ে ফেলেছি। আমি বৃদ্ধ মানুষ, আমার প্রসাবে তো অনেক গন্ধ। মায়ের কথা শুনে সন্তানের সহজ ও সরল উত্তর আমি যখন ছোট ছিলাম তখন আমার প্রসাব পায়খানা কত যত্ন সহকারেই তো প’রিস্কার করেছেন। আপনার তো কষ্ট মনে হয়নি একটি বারের মত।

আমার কেন কষ্ট লাগবে। মায়ের প্রসাব মাখা পোষাক ও বিছানা পরিস্কার করানোর ব্যবস্থা করলেন। মায়ের জন্য এতটুকু করার সৌভাগ্য তো সব সন্তানের হয় না। পরিস্কার ও শুকনা অনুভুতি পেতে মা আরাম অনুভব করলেন কিছুটা। স’ন্তানের জন্য দুই হাত তুলে দোয়া করলেন আল্লাহর দরবারে। চোখের পানি ছেড়ে দিয়ে মাফ চাইলেন। সন্তানের মঙ্গলের জন্য আল্লাহর কাছে চাইতে থাকলেন। মারা যাওয়ার আগে শেষ তিন দিনে একমাত্র সন্তানকে ওছিয়ত করে গেলেন। শেষ বারের মত উপদেশ দিয়ে গেলেন সৎপথে স’ততার সাথে ব্যবসা পরিচালনা করতে। গরীব অসহায়ের পাশে দাড়াতে। কারো প্রতি অন্যায় আচরন করা থেকে বিরত থাকতে বললেন। মিথ্যা প’রিত্যাগ করে সব সময় সত্যের আশ্রয় নিয়ে চলতে বললেন। চোখে পানি নিয়ে সন্তানের কাছ থেকে মা মাফ চেয়ে নিলেন।

সন্তানকে বললেন তোমার সব ভুল*ত্রুটি আমি ক্ষমা করে দিলাম। আজ থেকে তোমার সকল ঋণও আমি মুক্ত করে দিলাম। লালন পালন থেকে শুরু করে বুকের দুধের ঋণ সহ সব ধরনের ঋণ থেকে তোমাকে দায়মুক্ত করে দিলাম। আমার দোয়া সব সময় তোমার সাথে থাকবে। সন্তানের জন্য আরও বলে গেলেন তোমার স্ত্রী’কে সব সময় দেখে রাখবে। সন্তানদেরকে সঠিক ও উপযুক্ত শিক্ষায় মানুষের মত মানুষ করে তুলবে। আর তোমার সম্পদ সঠিক ভাবে তাদের মধ্যে বন্টন করে দিবে। আমি তাদের জন্যও দোয়া করে যাচ্ছি। পরের দুই দিনে মায়ের শরীর আরও খারাপ হতে থাকে। শেষ নিঃ’শ্বাস ত্যাগ করে দু’নিয়ার মায়া ত্যাগ করে বিদায় নেন।

সন্তান এবং মায়ের সম্পর্ক দুনি’য়ার মধ্যে সবচেয়ে মধুর সম্পর্ক। মায়ের দোয়া সন্তানের জন্য পথ চলার পাথেয়। আমাদের অনেকেই মায়ের যথাযথ সম্মান করতে পারি না। স্ত্রী সন্তান দুনিয়ার মোহে পড়ে মা*বাবাকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠিয়ে দেই। কিন্তু এটুকু বিশ্বা’স করেন মা বাবা স’ন্তানের জন্য অনেক বড় নিয়ামত। পৃথিবীর সমস্ত সফলতা একমাত্র মায়ের দোয়ার বদৌলতে আসতে পারে। সময় থাকতে মায়ের সেবা করে দোয়া আদায় করে নিন। কর্তব্য পালনের মাধ্যমে মধুর সম্পর্ক তৈরী করুন। দুনিয়ার মায়ের সেবা করার মাধ্যমে পর’কালে পরকালে বেহশত পাওয়ার রাস্তাও সুগম হবে।

সংবাদটি আপনার ফেইসবুকে শেয়ার করুন...

এই ক্যাটাগরীর অন্যান্য সংবাদ :

কক্সবাজারে মরণব্যাধি করোনা ভাইরাসের কারনে বাজারে হঠাৎ করেই হ্যান্ড স্যানিটাইজারের সঙ্কট দেখা দিয়েছে। ফলে মানবিক বিবেচনায় নিজেদের টাকায় হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরীর পর তা সাধারণ জনগনের মাঝে বিনামূল্যে বিতরণ করে বিরল দৃষ্টান্ত দেখিয়েছেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক ও ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ছাত্রলীগের সভাপতি মইন উদ্দিনের নেতৃত্বে একদল ছাত্রলীগ কর্মীর এমন মহতি উদ্যোগ সবার মাঝে প্রশংসা কুড়িয়েছে।
এর আগে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য সাধারণ মানুষের মাঝে সচেতনতা তৈরী সরূপ হাতকে জীবাণুমুক্ত রাখতে সারাদেশে হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরী এবং বিতরণের নির্দেশ দেয় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। এরপর নিজেদের তত্বাবধানে হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরির কাজ শুরু করে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা।
রোববার বিকেল থেকে কক্সবাজারে হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরির কাজে নামে ছাত্রলীগ। তারা ১ম ধাপে তিন শ’ বোতল স্যানিটাইজার তৈরি করে। পরবর্তীতে ছোট বড় আরো ২শ’ বোতল স্যানিটাইজার বানানো হয়। পর্যায়ক্রমে প্রয়োজন সাপেক্ষে আরো ৫শ’ স্যানিটাইজার এবং মাস্ক বানিয়ে সম্পন্ন মানবিক বিবেচনায় তা সাধারণ মানুষের মাঝে বিনামূল্যে বিতরণ করা হবে বলে জানিয়েছেন ছাত্রলীগ নেতা মইন। সমসাময়িক সঙ্কটময় মুহুর্তে ব্যতিক্রমী এমন মহৎ কাজের অন্যতম প্রধান উদ্যোক্তা জেলা ছাত্রলীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক ও ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ছাত্রলীগের সভাপতি মইন উদ্দীন জানায়, ফার্মাসির কয়েকজন শিক্ষার্থীর সহযোগিতায় হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরির উদ্যোগ নেন তারা। নিজেদের তৈরিকৃত এসব স্যানিটাইজার বিনামূল্যে সাধারণ মানুষের মাঝে বিতরণ করছেন। সবগুলো স্যানিটাইজার স্বাস্থ্যসম্মতভাবে তৈরী হচ্ছে বলেও জানান মইন উদ্দিন। এদিকে প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাস নিয়ে দেশের এই সংকটময় মুহুর্তে একজন ছাত্রলীগ নেতার এমন উদারতা শুধু কক্সবাজার নয়, সারাদেশের ছাত্র রাজনীতির ইতিহাসে অনন্য উচ্চতার মাইল ফলক হয়ে থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন এখানকার রাজনৈতিক বোদ্ধারা।

মানবতার ফেরিওয়ালা ছাত্রলীগ নেতা মইন