‘অরুণোদয়’ প্রত্যাশার আলো ছড়াবেই…

আহসান সুমন, (CEO)সিইও কক্সটিভি♦
  • প্রকাশিত সময় : শুক্রবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৯

ওরা কেবলই প্রতিবন্ধী নয়, সঠিক পরিচর্চা এবং আদর ভালবাসা শিক্ষা পেলে ওরাও একদিন দেশ ও জাতির গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হতে পারে। কারন প্রতিবন্ধীদের মাঝেও বিশেষ বুদ্ধি ক্ষমতা সম্পন্ন ব্যক্তি রয়েছে। তাই সকলের জন্য সব মৌলিক চাহিদা পূরণের মাধ্যমে বৈষম্য মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে চায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার। বঙ্গবন্ধু কন্যার সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে তাঁরই সুযোগ্য কন্যা বিশ নন্দিত অটিজম বিশেষজ্ঞ সায়মা ওয়াজেদ হোসেন পুতুলের নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিবন্ধীদের কল্যাণে যেসব কাজ করছে তা এখন বিশ^ দরবারে রোল মডেল। একইভাবে কক্সবাজারের অরেুনোদয় স্কুলটিও একদিন আলো জ¦ালাবেই। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কক্সবাজারে নবপ্রতিষ্ঠিত ‘অরুণোদয়’ স্কুল প্রাঙ্গনে ২৮তম আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস ও ২১তম জাতীয় প্রতিবন্ধী দিবস উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে জেলা প্রশাসন ও জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক হাসান মাসুদ।
এসময় অতিথিদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল, কক্সবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক, পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা, সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র মুজিবুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ শাজাহান আলি, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মোহাম্মদ আমীন আল পারভেজ, ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডাক্তার মহিউদ্দিন মোঃ আলমগীর ও শেখ রাসেল শিশু প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের উপ-পরিচালক জেসমিন আকতার।


এসময় বক্তারা বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশের জন্য স্বাধীনতা নিয়ে এসেছেন। আমাদের লক্ষ্য হলো এই স্বাধীন দেশের সকল জনগণ সমান অধিকার নিয়ে বসবাস করবে এবং আমরা এই লক্ষ্য অর্জনে কাজ করছি।
অটিজম অথবা প্রতিবন্ধীতা কোন রোগ অথবা অসুস্থতা নয়, এ কথা উল্লেখ করে বক্তারা আরো বলেন, বর্তমান সরকার এমন পদক্ষেপ নিচ্ছে যাতে অটিজম অথবা প্রতিবন্ধীতায় যারা ভুগছেন তারা সমাজের মূলধারার সঙ্গে বসবাস করতে পারেন।
এ ধরনের প্রতিবন্ধীতায় যে সব শিশুরা ভুগছেন তাদের পিতা মাতার জন্য এটি খুবই বেদনাদায়ক। আমরা তাদের এই দুর্দশা নিরসনে বিভিন্ন পদক্ষেপ ও কর্মসূচি গ্রহণ করেছি।
পাশাপাশি দেশের ব্যাপক আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের কথা তুলে ধরে বক্তারা বলেন, শেখ হাসিনার সরকার প্রতিবন্ধীদের সমাজের মূল ধারায় ফিরিয়ে আনতে জোর গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।
সে জন্য আমরা চাই দেশের উন্নয়ন এবং আমরা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের গুরুত্ব দিচ্ছি যাতে তারা উন্নয়ন থেকে পিছিয়ে না থাকে। প্রসঙ্গত: ২০৩০ সাল নাগাদ টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এবং ২০৪১ সালে উন্নত দেশে উন্নীত হতে “প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন ২০১৩” এর আলোকে সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে সমাজের মূল ধারায় অন্তর্ভুক্ত করার গুরুত্বের উপর আলোকপাত করা হয় আলোচনা সভায়।
এর আগে “অভিগম্য আগামীর পথে” প্রতিপাদ্যে সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা শুরু হয়ে “অরুণোদয়” স্কুল অঙ্গনে গিয়ে শেষ হয়।

সংবাদটি আপনার ফেইসবুকে শেয়ার করুন...

এই ক্যাটাগরীর অন্যান্য সংবাদ :