দুর্বৃত্তায়িত রাজনৈতিক ব্যবস্থায় ক্রমশই কী হারিয়ে যাবে সুলতান মাহমুদ চৌধুরীরা

সুজন কান্তি পাল, সিনিয়র প্রতিবেদক কক্সটিভি♦
  • প্রকাশিত সময় : রবিবার, ১৭ নভেম্বর, ২০১৯

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে মুক্তি পাগল সমগ্র বাঙালি জাতি যখন স্বাধীনতার জন্য ঐক্যবদ্ধ ঠিক সে সময় উখিয়ার টাইপালং গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে ১৯৭০ সালের ১২ জুন জন্ম সুলতান মাহমুদ চৌধুরীর। ছাত্রজীবনে স্কুল থেকেই রাজনীতির হাতে-খঁড়ি তার। ‘৭৫ -এ বঙ্গবন্ধুর নির্মম হত্যাকান্ডের পর তাঁরই প্রতিষ্ঠিত বাকশালেরই ছাত্র সংগঠন জাতীয় ছাত্রলীগের খাতায় একজন সাধারণ কর্মী হিসেবেই নাম লিখিয়েই বিপ্লবী রাজনীতির ধারায় নিজেকে সম্পৃক্ত করেন প্রথমে তিনি। মাত্র অল্প বয়সেই উখিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে জাতীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হন তিনি। নির্বাচিত হওয়ার পরপরেই তিনি খুব দ্রুত ছাত্র সমাজের প্রিয়মুখে পরিণত হন। তার পর থেকেই রাজনীতিতে তাকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। এর অল্প সময়ের ব্যবধানে দায়িত্ব পান উপজেলা জাতীয় ছাত্রলীগের নিয়মিত কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও পরবর্তীতে আহবায়কের। ১৯৮১ সালের ১৭ মে জাতির জনকের কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা প্রবাস জীবন ছেড়ে দেশে ফিরে অাসলে এই সুলতান মাহমুদ চৌধুরীরাই প্রথমে নেত্রীর ভ্যানগার্ডের দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে তুলে নেন। সেই বৈরি সময়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামীলীগ সংগঠন হিসেবে পুনরায় ঘুরে দাঁড়ালে সুলতান মাহমুদ চৌধুরী ছাত্র রাজনীতি ছেড়ে আওয়ামীলীগের অঙ্গ সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের হাল ধরেন উখিয়ায়। তিনি প্রথমেই এশিয়া মহাদেশের সর্ববৃহৎ এই যুব সংগঠনের উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব নেন। ও পরে দীর্ঘদিন সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। উপজেলার পাশা-পাশি জেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন অনেক দিন।

পঁচাত্তর পরবর্তী সময়ে দেশ যখন সামরিক শাসনের যাঁতাকলে পিষ্ট, আওয়ামীলীগের নাম যেখানে মুখে নেওয়ার সাহস করতনা অনেকেই ঠিক সেই বৈরী সময়ে শ্রোতের উল্টো দিকে আওয়ামী রাজনীতির ঝান্ডা উঁচিয়ে বেড়িছেন এই সুলতান মাহমুদ চৌধুরীরাই।
নব্বইয়ের সামরিক স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন ও জোট সরকারের দমন-পীড়নকে উপেক্ষা করে জোট সরকার বিরোধী আন্দোলনেও রাজপথে রেখেছিলেন তিনি আপোসহীন ভূমিকা। যার জন্য জোট সরকারের আমলে জেলও খেটেছিলেন তিনি। ১৯৯৬ থেকে-২০০১ এবং ২০০১-২০০০৬ এর জোট শাসন + সেনাসমর্থিত সরকারের দু’ বছর বাদ দিয়ে ২০০৮ থেকে অাজ অবধি বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ টানা রাষ্ট্র ক্ষমতায় অাসীন। ক্ষমতার এই রমরমা সময়ে অনেক সুবিধাবাদী লোক রাজনীতির নানা অন্ধকার অলি- গলি পেরিয়ে সংগঠনের বিভিন্ন পদ-পদবীকে ব্যবহার করে রাতারাতি ক্ষমতা, জৌলসভরা জীবনের স্বাদ পেলেও এই একজন সুলতান মাহমুদ চৌধুরী হয়ত: তোষামোদির রাজনীতিতে নিজেকে পারদর্শী করতে না পারার কারণে পা রাখতে পারেননি আর উপরের সিঁড়িতে। পাননি ক্ষমতার বিন্দুমাত্র স্বাদও। একটি বেসরকারি সংস্থায় সামান্য বেতনে চাকরি করেই যাপন করছেন দিন। তাই এখন অনেকের মাঝে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে এভাবেই কী কাটবে তাহলে সুলতান মাহমুদ চৌধুরীদের অাজীবন! আওয়ামী রাজনীতির জন্য নিজের জীবন-যৌবনের সোনালি সময় বিসর্জন দেয়া সুলতান মাহমুদ চৌধুরীরা কী এভাবেই তাহলে হার মেনে নিবে হাল অামলের দুর্বৃত্তায়িত রাজনৈতিক ব্যবস্থার কাছে?

সংবাদটি আপনার ফেইসবুকে শেয়ার করুন...

এই ক্যাটাগরীর অন্যান্য সংবাদ :