খ্যাতি আর ব্যস্ততার মাঝেও বন্ধুত্বের জন্য বিরল দৃষ্টান্ত সোলতান মাহমুদ চৌধুরী

মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন, কক্সটিভি
  • প্রকাশিত সময় : শনিবার, ৯ নভেম্বর, ২০১৯

সোলতান মাহমুদ চৌধুরী আমার হাই স্কুল এবং কলেজ জীবনের সহপাঠী। পালং আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণী থেকে শুরু হওয়া সম্পর্কটি জীবনের এই পর্যায়েও বিদ্যমান। উখিয়া উপজেলাধীন জালিয়াপালং ইউনিয়নের অন্তর্গত পাইন্যশিয়া গ্রামের যে পরিবারে তার জন্ম, সে পরিবারটি ছিল সমগ্র উখিয়ায় জমিদারী, সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিকভাবে সুপ্রসিদ্ধ, সমৃদ্ধশালী এবং ঐতিহ্যবাহী। তার দাদা ছিলেন উখিয়া উপেজলা বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাকালীন থেকে অামৃত্যু পর্যন্ত সভাপতি। ছাত্রজীবনে মেধাবী আমাদের এই বন্ধুটি লেখাপড়ার পাশাপাশি ছাত্ররাজনীতিতেও ছিল বেশ অগ্রগণ্য এবং সোচ্চার, যেখানে অামাদের ছিল প্রচন্ড অনীহা এবং যোজন দূরত্ব। তার সাংগঠনিক মেধা, দক্ষতা এবং বিচক্ষণতার কারনে দীর্ঘসময় উখিয়া উপজেলা ছাত্রদলের সাধারন সম্পাদক ও সভাপতির দায়িত্বপালন শেষে উপজেলা বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক থেকে বর্তমানে সাধারন সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বপালন করছে। গেল উপজেলা নির্বাচনের অাগের নির্বাচনে প্রথমবারের মত ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করে বিপুল ভোটে জয়লাভ করে নিজের গ্রহণযোগ্যতা এবং জনপ্রিয়তায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। পরবর্তীতে কিছুকাল ভারপ্রাপ্ত উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবেও বেশ সুনামের সহিত দায়িত্বপাল করে। বলা হয়ে থাকে সোলতান মাহমুদ চৌধুরী উখিয়া উপজেলা বিএনপি’র জন্য একটি অন্যতম শক্তি। তার এই অবস্থান সৃষ্টি হয়েছে মূলতঃ তার স্বচ্ছ, কর্মীবান্ধব, জনবান্ধব এবং অহিংস রাজনীতির কারনে।

সোলতান মাহমুদ চৌধুরী রাজনীতিতে যেমন সফল, তেমনি সৎ এবং বৈধ ব্যবসায়ী হিসেবেও তার সফলতা রুপকথার মতই। বিবিধ ট্রেডিং ব্যবসার পাশাপাশি তার রয়েছে রিয়্যালস্ট্যাট ব্যবসাও। মূলতঃ এই রিয়্যালস্ট্যাট ব্যবসা দিয়েই তার আজকের এই অবস্থান। পরিশ্রম এবং বৈধ ব্যবসার মধ্য দিয়েও যে, এই যুগে প্রচুর ধনসম্পদ এবং বাড়িগাড়ির মালিক হওয়া যায়, তার উজ্জ্বল এবং অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত এই সোলতান মাহমুদ চৌধুরী।

বর্তমানে ক্ষমতার বাইরে থাকলেও সে নিজ ব্যবসা-বানিজ্য ও নিজ দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও সমাজসেবামূলক কর্মকান্ড এবং স্থানীয় বিরোধ মীমাংসা তথা বিচার সালিশ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে। বিচার সালিশে তার বুদ্ধিমত্তা, দক্ষতা এবং নিরপেক্ষ ভূমিকার ব্যাপারেও বেশ সুনাম রয়েছে সর্বত্র। করেছে বড়সড় অনেক বিরোধপূর্ণ ঘটনার মীমাংসা। থানায় মামলা হতে যাওয়া বা অভিযোগ দাখিল হয়েছে এমন অসংখ্য বিষয়েরও মীমাংসা করে বহু পক্ষ-বিপক্ষকে মামলার ঝামলা থেকে রক্ষা করে সীমাহীন প্রশংসা অর্জন করেছে।

এতসব খ্যাতি আর ব্যস্ততার মাঝেও আমাদের এই বন্ধুটি বন্ধুত্বের প্রতি অসম্ভব রকমের দায়িত্বপরায়ন। খ্যাতি আর অঢেল সম্পদ তাকে বন্ধুদের কাছ থেকে আলাদা করতে পারেনি। বরং; প্রতিনিয়ত সবার খোঁজখবর রাখার পাশাপাশি কার কি সমস্যা এবং সেসব কিভাবে সমাধান করা যায় কিংবা বন্ধুত্বের বন্ধনকে আমৃত্যু কিভাবে সুদৃঢ় রাখা যায় সেইসব বিষয় নিয়েও চিন্তা করে এখনো! তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ, সম্প্রতি আমাদের অারেক বন্ধু আয়ুব খন্দকার জটিল কিডনি রোগে হলে তাকে বাঁচানোর জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা খরচ সংগ্রহ করতে নিজের ব্যস্ততার মাঝেও আমাদেরকে সাথে নিয়ে যেভাবে রাতদিন সময় দিয়ে যাচ্ছে তা বন্ধুত্বের জন্য সত্যিই এক বিরল দৃষ্টান্ত।

বন্ধু, তুমি দৃষ্টান্ত হয়ে বেঁচে থাক বন্ধুদের হৃদয়ে। সফল এবং সম্মানীত হও আরো বেশি।

তোমার জন্য ভালবাসা অবিরাম…
——————————————–
মূল্যায়ণে—
তোমারই বন্ধু,
মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন।

সংবাদটি আপনার ফেইসবুকে শেয়ার করুন...

এই ক্যাটাগরীর অন্যান্য সংবাদ :